Monday, 8 June 2015

এবং ফেসবুক

সমস্যা! হ্যাঁ সমস্যার কথাই বলছি, জন্ম থেকেই মানুষ সমস্যার কবলে পড়ে। একটা শিশু, জন্মের পর যখন দেখল সে মাতৃগর্ভ থেকে বেরিয়ে এক অন্য জগতে এসে পড়েছে  তখনই অনুভব করতে থাকে সে সমস্যায় পড়েছে। সমাধান না পেয়ে শুরু করে কান্না, ওয়্যাঁও ওয়াও, তারপর থেকে শুরু হয় একটার পর একটা সমস্যা। সমস্যার শৃঙ্খল, এই শৃঙ্খলেই মানব জীবন শেষ হয় যায়। মৃত্যুর ঠিক আগ মুহুর্ত পর্যন্ত সমস্যার বেড়াজালে আবদ্ধ থাকে মানুষ।
 শ্রেণিভেদে সমস্যাও ভিন্ন ভিন্ন হয়, এই যেমন ইলাইট ক্লাসে বা উচ্চ শ্রেণীর পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশু মাতৃদুগ্ধের অভাবজনিত সমস্যায় ভোগে, এর কারণ এই উঁচু শ্রেণীর মায়েরা মনে করেন, তাদের অনেক কষ্টার্জিত অনেক সাধনার ফলশ্রুতিতে প্রাপ্ত 'জিরো ফিগার' এই বুঝি জবাব দেবে, এই দশ মাস কি কম  ধকল গেলো! এখন বুকের দুধ খাওয়ালে আর রক্ষে নেই! অনেকটা এই ভয়ে। (অবশ্য ব্যতিক্রমও আছেন)। এবার সমাজের বঞ্চিত নিপীড়িত মানুষদের কথাই ধরুন, আর্ধাহার অনাহারে দিন গুজরান করলেও প্রকৃতির নিয়মে অন্যান্য প্রাণীদের মতই এরা উন্নত জ্বিনের খোঁজে বংশবৃদ্ধি ঘটায়। নবাগত শিশু অপুষ্টিতে ভোগা মায়ের দুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে না পাওয়ার সমস্যায় ভোগে।
শুরু থেকে সমস্যা নিয়ে জন্মানো মানুষ  আরো সমস্যা বাড়ায়। শহুরে বাবুদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্টের আস্তাকুড়ে খুঁজতে থাকে খাদ্য, বেঁচে থাকার সমস্যা সমাধানে। শহরের প্রান্তে গজিয়ে উঠে বস্তি, অর্ধাহারে অনাহারে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষদের বাসস্থান বাবুরা নাম দেন 'ঝোপড় পট্টি' বা স্লাম এরিয়া। এদের নিয়েও সমস্যা, নাম গোত্রহীন পরিচয়হীন এই মানুষগুলি হয়ে ওঠেন রাজনৈতিক সমস্যা। এদের নিয়ে শুরু হয় খেলা, হয় ভোটের নয় ধর্মের। কেও ভোটার কার্ড কেও রাশন কার্ড কেও বা ধর্মীয় কার্ড বানিয়ে দিতে চান, এরা চলে আসেন কাগজের শিরোনামে, নয়ত টিভির পর্দায়, ভাবেন এই বুঝি সমাধান হল সব সমস্যার! ভোটের খেলা সাঙ্গ হলে এরা ফের তলিয়ে যান সমস্যার সাগরে।
গত সাত দশক থেকে এই উপমহাদেশের কিছু মানুষ ভুগছেন 'আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে' হ্যাঁ আমি ছিটমহলবাসীদের কথাই বলছি। দেশ স্বাধীন হল, দুটো থেকে তিনটে হল, সরকার বদলালো  এদের সমস্যা থেকে গেলো ঠিক তেমনই। এরা ভুগতে লাগল আইডেন্টিটি ক্রাইসিস জনিত সমস্যায়। না পেলো দেশ না পেলো স্বাধীনতা, গণতন্ত্র মুখ লুকালো...  বাই দ্য পিপল ফার দ্য পিপল! ফার হতে হতে সত্যি অনেক ফার হয়ে গেলো।
যাই হোক সমস্যার কথা বলতে এ কথা সে কথা বলে অনেক কথাই বলে ফেললাম। আমার আপাতত সমস্যা হচ্ছে আমার বন্ধু তালিকা নিয়ে... অবাঞ্ছিত অনেকেই ঢুকে পড়েছেন আমার বন্ধু তালিকায়। প্রায় ১৩০০ জন। এত বন্ধু আমার !! ভাবা যায়? অথচ কমেন্ট লাইক ইত্যাদি করেন বড়জোর শ দেড়েক ফেবু বন্ধু। তালিকায় আবার অনেক সেলিব্রেটি আছেন! ভুলেও তারা কমেন্ট করেন না, কথা বলেন না। কোন ব্যাপার না, তাঁদের হয়ত সমস্যা থাকতেই পারে। তবে কিনা বাকি হাজার জন!! এরা আছেন কি করতে?? শুধু নোংরা কিছু ছবি/ বাজে বকও্যাস/ মাথা মুণ্ডুহীন কিছু পোস্টে আমাকে ট্যাগাতে?? এসব ট্যাগিং নয় রিগিং! হ্যাঁ দস্তুর মত রিগিং!! আমাকে যদি কোন কিছু জানানোর/দেখানোর থাকে, তাহলে সেই পোস্টে মেনশন করলেই তো হয়। ভালো লাগলে লাইক দেবো কমেন্ট করব। কিন্তু ট্যাগানোর কি আছে? তাছাড়া আমার নিউজ ফিডে তো আমি এমনিতেই দেখতে পাব। যাক এবার ফেরেন্ড লিস্টি না ঝাড়লেই নয়। আর কিছু না পারি, এই সমস্যার অন্তত সমাধান আমাকে করতেই হবে।

No comments:

Post a Comment